ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণী।
নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়লেও ইশান কিষাণ এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে তা স্রেফ উড়ে যায়। ভারত মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
নিউজিল্যান্ড টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে। রচিন রবীন্দ্র এবং মিচেল স্যান্টনারের ব্যাটে ভর করে তারা ২০ ওভারে ২০৮/৮ রান সংগ্রহ করে।
ব্যাটিং পারফরম্যান্স (নিউজিল্যান্ড🇦🇺)
| ব্যাটসম্যান | স্ট্যাটাস | রান | বল | ৪ | ৬ | স্ট্রাইক রেট |
| ডেভন কনওয়ে | ক: সূর্য ব: বুমরাহ | ২৫ | ১৮ | ৪ | ০ | ১৩৮.৮৯ |
| ফিন অ্যালেন | বোল্ড ব: সিরাজ | ১৫ | ০৯ | ২ | ১ | ১৬৬.৬৭ |
| রচিন রবীন্দ্র | ক: শুভমান ব: কুলদীপ | ৪৪ | ২৮ | ৪ | ২ | ১৫৭.১৪ |
| গ্লেন ফিলিপস | ক: হার্দিক ব: কুলদীপ | ২০ | ১৪ | ১ | ১ | ১৪২.৮৬ |
| মিচেল স্যান্টনার | অপরাজিত | ৪৭ | ২৭ | ৩ | ৩ | ১৭৪.০৭ |
| অতিরিক্ত | (লেগ বাই, নো বল) | ১২ | - | - | - | - |
বোলিং পারফরম্যান্স (ভারত🇮🇳)
ভারতীয় বোলাররা শুরুতে কিছুটা রান দিলেও মাঝের ওভারে কুলদীপ যাদবের স্পিন নিউজিল্যান্ডের রানের গতি থামিয়ে দেয়।
| বোলার | ওভার | মেডেন | রান | উইকেট | ইকোনমি |
| জাসপ্রিত বুমরাহ | ৪ | ০ | ৩২ | ১ | ৮.০০ |
| মোহাম্মদ সিরাজ | ৪ | ০ | ৩৮ | ১ | ৯.৫০ |
| কুলদীপ যাদব | ৪ | ০ | ৩৫ | ২ | ৮.৭৫ |
| হার্দিক পান্ডিয়া | ৩ | ০ | ২৯ | ১ | ৯.৬৬ |
| রবি বিষ্ণোই | ৩ | ০ | ৩২ | ১ | ১০.৬৬ |
| আরশদীপ সিং | ২ | ০ | ২৩ | ১ | ১১.৫০ |
বোলিং ও ব্যাটিংয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ?
পাওয়ারপ্লে: নিউজিল্যান্ড প্রথম ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান তোলে। সিরাজ ও বুমরাহ শুরুতেই কনওয়ে ও ফিন অ্যালেনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান।
কুলদীপের জাদু: মাঝের ওভারগুলোতে কুলদীপ যাদব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট (রচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস) নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বড় রানের স্বপ্নে ধাক্কা দেন।
ডেথ ওভার: শেষ ৩ ওভারে মিচেল স্যান্টনারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কিউইরা ২০৯ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয়। স্যান্টনারের অপরাজিত ৪৭ রান নিউজিল্যান্ডকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছিল।
ভারতীয় ফিল্ডিং: আজকের ম্যাচে ভারতের ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। সূর্যকুমার যাদব এবং শুভমান গিলের বাউন্ডারি লাইনের ক্যাচগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যাটিং পারফরম্যান্স (ভারত🇮🇳)
নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়লেও ইশান কিষাণ এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে তা স্রেফ উড়ে যায়। ভারত মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়
| ব্যাটসম্যান | স্ট্যাটাস | রান | বল | ৪ | ৬ | স্ট্রাইক রেট |
| ইশান কিষাণ | ক: হেনরি ব: সোধি | ৭৬ | ৩২ | ১১ | ৪ | ২৩৭.৫ |
| সূর্যকুমার যাদব | অপরাজিত | ৮২ | ৩৭ | ৯ | ৪ | ২২১.৬ |
| শিবম দুবে | অপরাজিত | ৩৬ | ১৮ | ১ | ৩ | ২০০.০ |
| সঞ্জু স্যামসন | ক: রবীন্দ্র ব: হেনরি | ০৬ | ০৫ | ০ | ১ | ১২০.০ |
| বোলার | ওভার | উইকেট | রান | ইকোনমি |
| ম্যাট হেনরি | ৩ | ১ | ৪১ | ১৩.৬ |
| জ্যাকব ডাফি | ৪ | ১ | ৩৮ | ৯.৫ |
| ইশ সোধি | ৩ | ১ | ৩৪ | ১১.৩ |
| জাকারি ফোকস | ৩ | ০ | ৬৭ | ২২.৩ |
ম্যাচের বিশেষ কিছু পয়েন্ট
ইশানের রেকর্ড: ইশান কিষাণ মাত্র ২১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন, যা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ভারতীয়র দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটি।
সূর্যর ক্যাপ্টেন্স নক: অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব ৩৭ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: কিউইদের পক্ষে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ২৭ বলে ৪৭ রান এবং রাচীন রবীন্দ্র ৪৪ রান করেন। ভারতের পক্ষে কুলদীপ যাদব ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।
ম্যাচটি ভারতের জন্য এক বিশাল আত্মবিশ্বাস জোগাবে কারণ ২০৯ রানের টার্গেট তারা প্রায় ৫ ওভার হাতে রেখেই জিতে নিয়েছে।
(ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগ। আজকের রায়পুরের এই অবিস্মরণীয় জয় ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া)
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ (Man of the Match)
আজকের ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য সূর্যকুমার যাদব ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন। মাত্র ৩৭ বলে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস খেলে তিনি ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "মাঠের চারদিকে শট খেলতে পারাটা আমার শক্তির জায়গা এবং ইশান কিষাণ শুরুটা দারুণ করে দেওয়ায় আমার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল।"
পিচ এবং মাঠের অবস্থা (Pitch & Venue Report)
আজকের খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।
পিচ: পিচটি ছিল পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব। বল ব্যাটে খুব সুন্দরভাবে আসছিল, যার সুবিধা ভারতীয় ব্যাটাররা দারুণভাবে নিয়েছেন। তবে স্পিনারদের জন্য হালকা টার্ন থাকলেও কিউই বোলাররা তার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি।
আউটফিল্ড: মাঠের আউটফিল্ড ছিল বিদ্যুতের মতো দ্রুত। সামান্য টাচেই বল বাউন্ডারিতে চলে যাচ্ছিল।
আম্পায়ারদের ভূমিকা (Umpires)
ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ আম্পায়াররা। তাদের সিদ্ধান্তগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত।
মাঠের আম্পায়ার: নীতিন মেনন এবং কে.এন. অনন্তপদ্মানাভান।
তৃতীয় আম্পায়ার (TV Umpire): বীরেন্দর শর্মা।
পুরো ম্যাচে আম্পায়ারিং ছিল মানসম্মত। বিশেষ করে একটি কঠিন এলবিডব্লিউ (LBW) সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ডিআরএস (DRS) নেওয়া হলে দেখা যায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।
"ক্রিকেট ওয়ার্ডকাপ টি-টোয়েন্টি ২০২৬,Cricket Worldcup T-twenty 2026"
রায়পুরের দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ (Housefull)। প্রায় ৬৫,০০০ দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ভারতীয় দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
বিশেষ করে সূর্যকুমার যখন ছক্কা মারছিলেন, তখন পুরো স্টেডিয়ামে আলোকসজ্জা এবং দর্শকদের উল্লাস এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছিল। নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত ক্যাচগুলোতেও ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা তালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন।
(ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগ। আজকের রায়পুরের এই অবিস্মরণীয় জয় ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া)

